ফরজুন আক্তার মনি :- হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পশ্চিম তিমিরপুর গ্রামে আট বছরের এক বাকপ্রতিবন্ধী কন্যা শিশুকে ধর্ষণের লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। পৈশাচিক এই নির্যাতনের শিকার হয়ে শিশুটি রক্তাক্ত হলেও প্রভাবশালী মহলের কঠোর বাধায় তাকে হাসপাতালেও ভর্তি করতে পারেনি পরিবার। ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও আইনি পদক্ষেপ তো দূরের কথা, উন্নত চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত রাখােল হয়েছে শিশুটিকে। উল্টো গ্রাম্য সালিশের নামে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে নবীগঞ্জ সদর ইউপির পশ্চিম তিমিরপুর গ্রামের রোমেল মিয়ার আট বছরের বাকপ্রতিবন্ধী কন্যা শিশু হোমাইরাকে একা পেয়ে একই গ্রামের মৃত কাজী আফরোজ মিয়ার ছেলে প্রভাবশালী কাজী শুকন মিয়া (৫৫) ধর্ষণ করে। নির্যাতনের পর শিশুটি রক্তাক্ত ও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অভিযুক্ত কাজী শুকন মিয়া প্রভাবশালী হওয়ায় তার লোকজনের বাধায় হোমাইরাকে কোনো মেডিকেলে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। এমনকি তার প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষাও (মেডিকেল টেস্ট) আটকে দেওয়া হয়েছে।অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পর থেকেই কাজী শুকন মিয়াকে আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচাতে গ্রামের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি মাঠে নামেন। তারা ‘বিচারের’ নামে প্রহসনের সালিশের আয়োজন করে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে থানা-পুলিশ বা কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। কথা বলতে না পারা অসহায় ও রক্তাক্ত শিশুটিকে নিয়ে তার দরিদ্র পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও চরম বিচারহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। চারদিক থেকে আসা হুমকির মুখে তারা মুখ খুলতেও ভয় পাচ্ছেন।এদিকে, দেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে এমন একটি বর্বরোচিত ফৌজদারি অপরাধের ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অপরাধীকে আড়াল করার এই তৎপরতায় গণমাধ্যমকর্মীদের রহস্যজনক নীরবতা পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও এক ধরনের ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছে।এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, একটি বাকপ্রতিবন্ধী শিশুর ওপর এমন পশুতুল্য আচরণ, তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় চিকিৎসাবঞ্চিত রাখা এবং পরবর্তীতে সালিশের নামে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আইনবিরোধী কাজ। ধর্ষণের মতো ঘটনা কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়। তারা অবিলম্বে এই ঘটনায় প্রশাসনের স্বতঃপ্রণোদিত (সুওমোটো) হস্তক্ষেপ, শিশুটির দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং লম্পট কাজী শুকন মিয়ার দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি