ফরজুন আক্তার মনি,:হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের সাতাইহাল ১২৩ নং নবজাগরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহাব (ফারুক মাস্টার)-এর বিরুদ্ধে গুরুতর জালিয়াতি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম-বহির্ভূতভাবে নিজের মেয়ে ফাইজা ফাইরোজ মুমু-কে বিদ্যালয়ের ভুয়া শিক্ষার্থী সাজিয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।নিয়ম লঙ্ঘন ও অনিয়মের চিত্র:স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহাব ফারুক মাস্টারের মেয়ে ফাইজা ফাইরোজ মুমু ওই বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন না। কিন্তু প্রধান শিক্ষক সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে দাপ্তরিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া নথিপত্র এবং হাজিরা খাতা তৈরি করেন। পরবর্তীতে নিজের মেয়েকে বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর নিয়মিত শিক্ষার্থী দেখিয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন এবং পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেন।বঞ্চিত প্রকৃত মেধাবীরা:স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক নিজের মেয়েকে অন্যায় সুবিধা দিতে গিয়ে স্কুলের প্রকৃত ও নিয়মিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের অধিকার খর্ব করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী যে কয়জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে বহিরাগত মেয়েকে অন্তর্ভুক্ত করায় যোগ্য ও দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। শিক্ষকের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ শিক্ষানুরাগী মহল।তীব্র ক্ষোভ ও শাস্তির দাবি:এই জালিয়াতির খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গজনাইপুর ইউনিয়নসহ পুরো উপজেলায় তোলপাড় শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নেটিজেনরা শিক্ষকের এই প্রতারণার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছেন। সাধারণ মানুষ ও সংক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা অবিলম্বে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।এছাড়াও সঠিক সময়ে বিদ্যালয় পরিচালনা না করে সকাল ৯ টায় একজন গৃহশিক্ষিকা কে উক্ত বিদ্যালয় প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছেন।এ যেন বিদ্যালয়ের মালিকানা লিজে আবদ্ধ। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, প্রাথমিক শিক্ষার মতো সংবেদনশীল স্তরে এমন দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে যাবে। তারা এই বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি