বিশেষ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বৃ-কাঠালিয়া গ্রামের কৃতী সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজসেবী মরহুম সুরুজ আলী’র মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৫১ সালের ৪ জানুয়ারি এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন আলী হোসেন মুন্সি এবং মাতা মোমজান বেওয়া। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী স্বভাবের।
গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে উঠেও তিনি মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। অল্প বয়সে পিতার মৃত্যুতে সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাঁধে; ফলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন দীর্ঘায়িত করা সম্ভব হয়নি।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর নয় মাস মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিজয়ের গৌরব নিয়ে বাড়ি ফেরেন। স্বাধীনতার পর তিনি জেলা মৎস্য কর্মকর্তার অধীনে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। পাশাপাশি ব্যবসার মাধ্যমে পরিবার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
আনুমানিক ১৯৭৫ সালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৭৮ সালে বড় ছেলে এবং ২০০১ সালে কনিষ্ঠ কন্যার জন্মের মাধ্যমে তার পরিবার পূর্ণতা লাভ করে। কিন্তু কনিষ্ঠ কন্যার জন্মের কিছুদিন পরই তিনি মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। ঢাকা ও ময়মনসিংহে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকেরা তার আয়ু স্বল্প বলে জানান।
২০০২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পবিত্র ঈদুল আজহার দিন কোরবানি সম্পন্নের পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ব্যক্তিজীবনে মরহুম সুরুজ আলী ছিলেন সৎ, আদর্শবান ও ন্যায়নিষ্ঠ মানুষ। অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করেননি। এলাকার গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট থাকতেন। সন্তানদের ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষায় সমান গুরুত্ব দিতেন এবং সবসময় বলতেন—মানুষের মতো মানুষ হতে হলে শিক্ষার বিকল্প নেই।
মৃত্যুর আগে সন্তানদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তার গভীর উদ্বেগ ছিল। পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি ছোট সন্তানদের শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করার অনুরোধ রেখে যান। আজ তার সেই সন্তানরা শিক্ষা ও জীবনে অগ্রসর হয়ে তার স্বপ্ন পূরণের পথে রয়েছে।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে সকল আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীর কাছে তার রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি