নবীগঞ্জের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা, আপোসের গুঞ্জন
স্টাফ রিপোর্টার:হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে এক ব্যক্তিকে মারধর করে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে চৌধুরী ফয়সল শোয়েব (৬০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত চৌধুরী ফয়সল শোয়েব নবীগঞ্জ পৌরসভার শান্তিপাড়া হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা মৃত আবু ইউসুফ চৌধুরীর ছেলে এবং নবীগঞ্জ উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগমের স্বামী।
মামলার এজাহার ও বাদী সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসামির বাসা সংলগ্ন শান্তিপাড়া পানি নিষ্কাশনের ড্রেনের ওপর হামলার শিকার হন নবীগঞ্জ পৌরসভার আক্রমপুর গ্রামের মৃত যতীন্দ্র মালাকারের ছেলে জন্টু মালাকার (৪৫)। চৌধুরী ফয়সল শোয়েব তার ওপর এই হামলা চালান বলে অভিযোগ। হামলায় জন্টু মালাকারের পা ভেঙে যায়। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী জন্টু মালাকারকে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার পতনের পর থেকে চৌধুরী ফয়সল শোয়েবের নেতৃত্বে নবীগঞ্জ জে কে মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক পুকুর পাড় (যা ডিসি কর্তৃক লিজকৃত ছিল) এলাকার আওয়ামী লীগ নেতাদের দোকানপাট উচ্ছেদ করার জন্য একাধিক সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে।এদিকে, জন্টু মালাকারের পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের এক সপ্তাহ পার না হতেই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ফোনে বিষয়টি আপোষ-মীমাংসার দিকে নেওয়ার জোর তৎপরতা চলছে।উল্লেখ্য, চৌধুরী ফয়সল শোয়েব ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ এটাই প্রথম নয়। এর আগে তার স্ত্রী সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় এবং চৌধুরী ফয়সল শোয়েবের বিরুদ্ধে মোটাদাগের টাকা আত্মসাতের সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠন হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ফরজুন আক্তার মনিকে মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এছাড়া নবীগঞ্জ ছাত্রলীগের একাংশকে ব্যবহার করে তার ওপর হামলা, আওয়ামিলীগ নেতা আহমেদ আজাদের সঙ্গে জোট বেঁধে কয়েকটি দলের রাজনৈতিক নেতা কর্মী দিয়ে হামলা মামলা ও জেল-জুলুম চালানো হয়েছিল।সচেতন মহলের মতে, একজন সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী যেখানে তাদের হাত থেকে নিরাপদ ছিলেন না, সেখানে সাধারণ পরিবারের ভুক্তভোগী জন্টু মালাকার মামলা তুলে নিতে কতটা চাপের মুখে রয়েছেন, তা সহজেই অনুমেয়। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি