নিজেস্ব প্রতিবেদক : হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সিএ (সরাসরি সহকারী) মোহন দাশ এবং জারিকারক তৈয়ব আলীর সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা। সরকারি কর্মচারী বিধিমালা লঙ্ঘন, নোটিশের নামে হয়রানি, নথিপত্র গায়েব এবং অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। এই সিন্ডিকেটের খামখেয়ালিপনা বন্ধে সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কঠোর হস্তক্ষেপ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ফাইল গায়েব ও নোটিশ জালিয়াতি: সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদ বাতিল হওয়ার পর সিএ মোহন দাশ ইউএনও’র অধীনে নোটিশ জারির দায়িত্ব পান। এই সুযোগে তিনি পক্ষ-বিপক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিতে হয়রানি শুরু করেন। তাদের এই অনিয়ম পরীক্ষা করতে স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী ফরজুন আক্তার মনি নিজের সাথে ঘটে যাওয়া একটি সমস্যা নিয়ে বিগত ১৪ মে ২০২৫ সালে তৎকালীন পৌর প্রশাসক (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও কোনো নোটিশ জারি করা হয়নি।ভুক্তভোগী মনি জানান, “মোহন দাশের টেবিলে দিনের পর দিন ঘুরলেও তিনি রহস্যজনক কারণে নোটিশ জারি করেননি।” পরবর্তীতে তৎকালীন ইউএনও মোঃ রুহুল আমিনের নির্দেশে সিএ অফিসে গিয়ে দেখা যায় মূল ফাইলটিই গায়েব! বাধ্য হয়ে মনি ফটোকপি জমা দিয়ে নোটিশের ব্যবস্থা করেন।
শুনানি না করিয়েই বিবাদীকে বিদায়: অভিযোগ রয়েছে, নথিপত্র পুনরায় জমা দেওয়ার পর নোটিশ জারি হলে বিবাদী অফিসে হাজির হন। কিন্তু সিএ মোহন ও জারিকারক তৈয়ব আলী বিবাদীর কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে মূল অভিযোগকারীকে শুনানিতে অংশ নিতে দেননি। মনি অভিযোগ করেন, “আমাকে না জানিয়েই তারা বিবাদীকে কৌশলে অফিস থেকে বিদায় করে দেয়, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।” এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী মনি ও স্থানীয় সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
লোগোর অপব্যবহার ও পুরোনো আমলনামা: মোহন দাশের বিরুদ্ধে নিজের ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় লোগো ও স্টিকার ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও লাখাই উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও সরকারি ভূমি দখলের অভিযোগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
সহযোগী তৈয়বের অন্ধকার অধ্যায়: মোহন দাশের সহযোগী জারিকারক তৈয়ব আলীর বিরুদ্ধে চাকরির প্রলোভনে অসামাজিক কার্যকলাপের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। স্ত্রীর প্রতিবাদের কারণে দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ পরিবার বিচ্ছিন্ন তৈয়বের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ আদালতে মামলা চলছে। তার স্ত্রী নবীগঞ্জ ইউএনও বরাবর যে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন, সিএ ও জারিকারক সিন্ডিকেট তাও অফিস থেকে গায়েব করেছে বলে ভুক্তভোগীদের ধারণা।
অভিযুক্তদের বক্তব্য: অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিএ মোহন দাশের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। অন্যদিকে জারিকারক তৈয়ব আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ফোনে এসব কথা বলা যাবে না, অফিসে এসে কথা বলুন।”
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি