1. admin@dailyalokithbangladeshnewstv.com : admin :
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
নবীগঞ্জের আজাদের টিআইবি ফেলোশিপ বাতিল: আড়ালে নারী কেলেঙ্কারি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতির দুই দশকের কালো অধ্যায় নারী কেলেঙ্কারী, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজ আজাদের গলায় টিআইবি ফেলোশিপ, নবীগঞ্জে তীব্র ক্ষোভ নবীগঞ্জে দুর্গাপূজায় সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত: হিন্দু-মুসলিম সবার প্রশংসায় ভাসছেন শিল্পপতি ও কবি আশরাফ উদ্দিন নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে সুবাতাস: জনসেবায় এগিয়ে এসে আলোচনায় বিশিষ্ট শিল্পপতি আশরাফ উদ্দিন নবীগঞ্জে দিনারপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ নবীগঞ্জ উপজেলা সিএ মোহনের অনিয়মের পাহাড়, ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা নবীগঞ্জের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা, আপোসের গুঞ্জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় নবীগঞ্জের সাংবাদিক মনি’র গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য আলসেমি, এম হাবীবুল্লাহ নবীগঞ্জে বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ: রক্তাক্ত হলেও করা হয়নি চিকিৎসা, ধামাচাপা দিতে মরিয়া প্রভাবশালীরা

নবীগঞ্জের আজাদের টিআইবি ফেলোশিপ বাতিল: আড়ালে নারী কেলেঙ্কারি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতির দুই দশকের কালো অধ্যায়

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইমঃ বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২৯ বার পঠিত

নিজেস্ব প্রতিবেদক : অবশেষে বয়স জালিয়াতি ফাঁস হওয়ায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ফেলোশিপটি হারালেন নবীগঞ্জের বিতর্কিত সংবাদকর্মী এম. এ. আহমেদ আজাদ । গত ২৮ অক্টোবর (বুধবার) টিআইবি-এর কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এবং শাহরীন হকের পক্ষ থেকে পাঠানো এক অফিসিয়াল বার্তায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর ফেলোশিপ বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে কেবল বয়স জালিয়াতিই নয়, বিগত দুই দশকেরও বেশি সময়ের চাঞ্চল্যকর নারী কেলেঙ্কারি, লাগামহীন চাঁদাবাজি, জালিয়াতি( প্রতারণা) , জঘন্য অপরাধ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের এক দীর্ঘ কালো অধ্যায়। অভিযুক্ত এম. এ. আহমেদ আজাদ নবীগঞ্জ উপজেলার ১০ নং দেবপাড়া ইউনিয়নের সীট ফরিদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের পুত্র।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ:
এলাকার প্রবীণ মুরব্বি ও তৎকালীন জনপ্রতিনিধিদের সূত্রে জানা যায়, আহমেদ আজাদ কিশোর থেকেই নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে নিজের অপরাধ ও দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে তিনি সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। তাঁর ধারাবাহিক চাঁদাবাজি ও অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ২০০৩ সালে এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছিলেন, যা তৎকালীন দেশের অন্যতম প্রাচীন পত্রিকা ‘দৈনিক নওরোজ’-এ গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়।
এরপর ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করে ব্ল্যাকমেইলিং ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৬ সালে নবীগঞ্জ থানায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম মামলা দায়ের করা হয়। ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাংবাদিকতার কারণে দৈনিক মানবজমিন সহ একাধিক জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকা থেকে বিভিন্ন সময়ে তাঁর নিয়োগ বাতিল করা হয় এবং একাধিক জায়গায় তিনি মুচলেকা দিতে বাধ্য হন।

পারিবারিক ও নৈতিক স্খলনের ক্ষেত্রে জানা যায়, এক সন্তানের জননীর সাথে আজাদের পরকীয়ার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে উক্ত নারীর সংসার ভেঙে যায়। প্রথমে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালেও ঘটনাটি বড় আকারে প্রকাশ পাওয়ার পর গণচাপের মুখে ২০২১ সালেই আজাদ ওই নারীকে বিয়ে করতে বাধ্য হন। এর আগে ২০১০ সালে দরবেশপুর গ্রামের চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরীর কন্যা ফাহিমা আক্তার চৌধুরীর নামে ভুয়া বিয়ের হলফনামা তৈরি করে বিয়ে ভেঙে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তরুণীর পরিবারের নিকট মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে এক নজিরবিহীন নারী কেলেঙ্কারির জন্ম দেন আজাদ। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই নজরুল ইসলাম আদালতে মামলা দায়ের করলে তদন্তকারী কর্মকর্তা আজাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। তবে আজাদের ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকিতে টিকতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নজরুল ইসলাম দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। সাংবাদিক ফয়জুল ইসলাম নয়নকেও প্রাণনাশের হুমকি দিলে তিনিও থানায় জিডি করে পরিশেষে দেশত্যাগ করেন।
২০১৫ সালে নবীগঞ্জ বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ডের এক ঠিকাদারের নিকট মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন আহমেদ আজাদ। চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে গেলে ভুক্তভোগী ঠিকাদারের দায়ের করা মামলায় পুলিশ আজাদকে সরাসরি হাতেনাতে গ্রেফতার করে। তৎকালীন সময়ে নবীগঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক জোন বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ডে চাঁদাবাজির এই চাঞ্চল্যকর গ্রেফতারের সংবাদটি জাতীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’ পত্রিকায় বেশ গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়েছিল, যা স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
২০২০ সালে ৫ নং আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুনের নিকট চাঁদাবাজির ঘটনায়,চেয়ারম্যানের মালিকানাধীন ‘অরবিট ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ তার অনুসারীরা ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরবর্তীতে এই ঘটনাকে আরও বড় রূপ দিতে সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেন এবং পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালে তিনি বাদী হয়ে আজাদ সহ তার লোকের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ওই মামলায় তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেন এবং তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাত্র কয়েক দিনের মাথায় সে জামিনে বেরিয়ে আসে।

সাংবাদিক মনি’র ওপর নৃশংসতা ও বৃদ্ধ পিতার করুণ মৃত্যু: অভিযোগ রয়েছে, আজাদ তাঁর সাংবাদিক পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সার্টিফিকেট জালিয়াতির মাধ্যমে তাঁর প্রথম স্ত্রীকে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একটি প্রতিষ্ঠানে বড় অঙ্কের বেতনের চাকরিতে বহাল রেখে বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতি করেন। ২০১৯ সালে এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে নবীগঞ্জের কায়স্থ গ্রামের সাংবাদিক ফরজুন আক্তার মনি লড়াই শুরু করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে আজাদ ও তার ক্যাডার বাহিনী। মনি’র ওপর একাধিকবার হামলা ও কুৎসিত মিডিয়া ট্রায়াল চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো এই ঘৃণ্য অপপ্রচার ও উপজেলা আইনশৃংখলা মাসিক মিটিংয়ে তার লোক সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম ও সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগমের কুরুচিপূর্ণ আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রদান করেন। উক্ত বক্তব্য রেজুলেশনে অন্তর্ভুক্ত করে মিডিয়ায় প্রকাশ করে ভণ্ডামির এক কালো অধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বারবার ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে মানসিকভাবে মারাত্মক আঘাত পেয়ে মনির বৃদ্ধ পিতা ক্ষোভে ও দুঃখে ঘটনাস্থলেই স্ট্রোক করে তাৎক্ষণিক মৃত্যুবরণ করেন। এখানেই শেষ নয়, ২০২০ সালে অরবিট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ভাঙচুর ও হামলার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে আজাদ ও তাঁর দলবল প্রকাশ্য দিবালোকে মনি’র ওপর হামলা চালিয়ে তার শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং তার ব্যবহৃত ক্যামেরা ও গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হলেও রাজনৈতিক প্রভাবে আজাদ গ্রেপ্তার এড়িয়ে যান। চরম নিরাপত্তাহীনতায় একপর্যায়ে মনি এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। এমনকি মনি’র এ ভয়াবহ ঘটনার বিচার না করে তাকে বারবার কারাবন্দী করা হয়। কারাগারে থাকা অবস্থাতেও মনির ওপর লোক মারফত মারধর ও হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যার প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে মনির দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তার প্রথম স্ত্রী জালিয়াতির অপরাধে সেই প্রতিষ্ঠান থেকে সম্পূর্ণভাবে চাকরিচ্যুত হন। এছাড়াও, আজাদ ও তাঁর চক্রের সাইবার অপরাধ ও প্রশাসনিক নিপীড়নের এক রোমহর্ষক বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী মনি জানান, ২০১৯ সালে তাঁকে সাজানো মামলায় আটক করার প্রায় ৩ মাস আগে তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি বারবার হ্যাক ও বেদখল হওয়ার কারণে তিনি নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এন্ট্রি করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে আজাদ তাঁর রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পূর্ণ জিম্মি করে ফেলে এবং মনির ওপর অত্যাচারের মাত্রা তীব্র করে তোলে। এমনকি রাতের আঁধারে মনিকে তার ভাড়া বাসা থেকে সরাসরি গুম করার অপচেষ্টাও চালায় আজাদের ক্যাডার বাহিনী। মনি আরও জানান, ২০১৯ সালের সেই ঘটনার দিন তিনি আজাদের ধারাবাহিক সাইবার হ্যাকিং ও অত্যাচারের প্রতিকার চেয়ে থানায় কথা বলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু জিম্মি প্রশাসনকে ব্যবহার করে আজাদ চক্র কোনো আইনি সাহায্য না দিয়ে, উল্টো থানার সামনে থেকেই মনিকে নাটকীয়ভাবে আটকে ফেলে। এরপর মনির নিজেরই হ্যাক হওয়া ফেসবুক আইডির নাম ব্যবহার করে একটি সাজানো ও সম্পূর্ণ ভুয়া মামলা দিয়ে তাকে সরাসরি কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই সুপরিকল্পিত গ্রেপ্তারের সুযোগে মনির কাছে থাকা পেন ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনটি জব্দ (সিজ) করা হয়, যাতে আজাদ চক্রের শত শত অপরাধ, দুর্নীতি ও কুকীর্তির অকাট্য প্রমাণ সংরক্ষিত ছিল। মূলত নিজেদের অপরাধের প্রমাণাদি গায়েব ও লোপাট করার উদ্দেশ্যেই প্রশাসনকে জিম্মি করে মনিকে কারাবন্দী করা হয়েছিল। মনি আরও প্রকাশ করেন, আজাদ ও তার চক্রের এই সাইবার নিপীড়ন এখনো চলমান। তার একের পর এক পরবর্তী ফেসবুক আইডি ও মেসেঞ্জার বারবার হ্যাক করে সেখানে নানা ধরণের কুৎসিত প্রোপাগান্ডা ও অপপ্রচার চালানো হয়েছে। আজাদ চক্র অনবরত নানা কৌশলে মনির আইডিগুলো নিষ্ক্রিয় করে রেখেছে, যার ফলে তিনি সেগুলো আর ব্যবহার করতে পারছেন না। এ বিষয়ে থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এন্ট্রি করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টা থেকে তার বর্তমান আইডিটিও পুনরায় হ্যাকিং ও কূটকৌশলের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বেদখল করে নেওয়া হয়েছে, যার প্রেক্ষিতেও থানায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জিডি দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালে এই চক্রের অন্যতম সদস্য ৫নং আউশকান্দি ইউপির দৌলতপুর গ্রামের লেচু মিয়ার ছেলে শিহাব আহমেদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনির ফেসবুক আইডির কমেন্ট বক্সে হ্যাকিংয়ের লগইন তালিকার একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে।এই তালিকায় মনি’র ফেইসবুক আইডির নাম সহ একাধিক ফেইসবুক আইডির তালিকা দেখা যায়। কমেন্টে ব্যঙ্গ করে জানতে চায়, ‘ সাংবাদিকতা করতে কয়টি আইডি লাগে গো আফা?’—যা মূলত তাদের হ্যাকিংয়ের অকাট্য প্রমাণ এবং প্রশাসনকে জিম্মি করে চোখ ফাঁকি দেওয়ার এক প্রকাশ্য ঔদ্ধত্য।

২০২৩ সালে আজাদের আরেকটি বড় জালিয়াতি ও দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসে। নিজেকে ‘জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত’ দাবি করা সাংবাদিক আহমেদ আজাদের সার্টিফিকেট জালিয়াতির প্রমাণ মেলে ঢাকাস্থ সাংবাদিক রেজওয়ান আহমেদ ও ফারহানা নীলার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, দৈনিক সমকাল পত্রিকায় নিয়োগের জন্য আহমেদ আজাদ নবীগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের যে তথ্য জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করেছিলেন, তা সম্পূর্ণ অসত্য। তিনি ওই কলেজ থেকে পাসই করেননি এবং তার জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্তির দাবিটিও সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানোয়াট।
২০২৫ সালে আজাদের ব্ল্যাকমেইল ও হেনস্তার শিকার হন গোপলার বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শেখ মারজানুজ্জামান। একজন সম্মানিত শিক্ষককে অপদস্ত করার ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রছাত্রী ও এলাকাবাসী বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। গণদাবির মুখে থানায় নিয়মিত মামলা রেকর্ড করা হলেও প্রশাসনকে প্রভাবিত করতে আজাদের নানামুখী চাপ ও কূটকৌশলের মুখে অসহায় হয়ে উক্ত শিক্ষক মামলাটি আপোষ করতে বাধ্য হন। সর্বশেষ ২০২৬ সালেও নবীগঞ্জে একটি জোড়া খুনের ঘটনায় আহমেদ আজাদের উস্কানিদাতা ও মামলার আসামি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ চার্জশিট প্রদান করায় সেই পুলিশ কর্মকর্তাকে নানাভাবে হয়রানি ও চাপের মুখে ফেলা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই বিতর্কিত আজাদের টিআইবি ফেলোশিপ বাতিল এবং একের পর এক কুকীর্তি সামনে আসায় স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে। এলাকাবাসী এই জালিয়াতি ও দীর্ঘ ২৩ বছরের ধারাবাহিক অপরাধের সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মনি অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান, দীর্ঘ সময় ধরে চরম বিচারহীনতা আর জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে শেষ পর্যন্ত নিজের পৈতৃক ভিটা ও এলাকা ছেড়ে তিনি বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। এলাকা ছাড়লেও তিনি দমে যাননি; অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে তিনি আজীবন রাষ্ট্রের নিকট একজন একনিষ্ঠ বিচারপ্রার্থী এবং এই দীর্ঘ ২৩ বছরের ধারাবাহিক অপরাধ ও নিপীড়নের সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার মানুষ পাবেন বলে আশা রাখেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর...
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

Theme Customized BY: Themes Seller