1. admin@dailyalokithbangladeshnewstv.com : admin :
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে সুবাতাস: জনসেবায় এগিয়ে এসে আলোচনায় বিশিষ্ট শিল্পপতি আশরাফ উদ্দিন নবীগঞ্জে দিনারপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ নবীগঞ্জ উপজেলা সিএ মোহনের অনিয়মের পাহাড়, ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা নবীগঞ্জের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা, আপোসের গুঞ্জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় নবীগঞ্জের সাংবাদিক মনি’র গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য আলসেমি, এম হাবীবুল্লাহ নবীগঞ্জে বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ: রক্তাক্ত হলেও করা হয়নি চিকিৎসা, ধামাচাপা দিতে মরিয়া প্রভাবশালীরা হলুদ সাংবাদিকতার কবলে জনজীবন, ফরজুন আক্তার মনি নীরবে সমাজ বদলের স্বপ্ন বুনছেন সিমি কিবরিয়া অনিয়ম ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে মেয়েকে বৃত্তি পরীক্ষার সুযোগ করে দিলেন প্রধান শিক্ষক ফারুক মাস্টার

নবীগঞ্জ হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন বিকল : চিকিৎসা নিতে রোগীদের ভোগান্তি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইমঃ রবিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২১
  • ৮০৫ বার পঠিত

 

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র এক্স-রে মেশিনটি প্রায় ১১ বছর ধরে বিকল হয়ে আছে। এছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে জনবল সংকট। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা শিকার হচ্ছেন ভোগান্তির। পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পেয়ে কেউ কেউ ফিরছেন চিকিৎসা না নিয়েই।

জানা গেছে, ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা। উপজেলা থেকে জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। চিকিৎসা ক্ষেত্রে উপজেলাবাসীর একমাত্র ভরসা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট নিয়ে কোনোমতে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে এই হাসপাতালটি। গুরুতর কোনো সমস্যা হলে জেলা সদর, না হলে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরত্বের সিলেটে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী নিয়ে যেতে হয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছে, এখানে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিতে আসেন। সীমিত এই জনবল নিয়ে মানুষকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে জনবলের ঘাটতি পূরণ হলে উপজেলাবাসীকে আরো ভালোমানের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

প্রায় তিন বছর আগে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু দেওয়া হয়নি প্রয়োজনীয় জনবল। যেখানে জনবল সংকট নিয়ে ৩১ শয্যার থেকে কম জনবল নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিচালনা করা হয়েছে। সেখানে এই জনবলের ঘাটতি নিয়েই পরিচালনা করা হচ্ছে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কর্তৃপক্ষ সীমিত জনবল দিয়েই কোনোমতে উপজেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এদিকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে নানা ধরণের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ মেম্বার) জানান, কিছুদিন আগে আমি হাসপাতালে যাই চিকিৎসা নিতে কিন্তু জরুরি বিভাগে থাকা ডাক্তার ও নার্স আমার সাথে দুর ব্যবহার করে, আমাক ভর্তি দেয়া হলে বেড থাকা সত্ত্বেও আমাকে বেড দেয়নি পরে আমি মনের দুঃখে সেখান থেকে চলে এসেছি। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালে সরকারি সেলাইন দেয়ার বদলে বাহিরের ফার্মেসী থেকে সিলিফ ধরিয়ে দেয়। এসব দুঃখজনক।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের ১ জুলাই নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু ৫০ শয্যা অনুযায়ী যে জনবল নিয়োগ দেওয়ার কথা, তা এখনো দেওয়া হয়নি। ফলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চলছে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে। ৩১ শয্যার জনবলের মধ্যেই মেডিকেল অফিসার ১টি পদের মধ্যে ১টিই শূন্য, স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ (গাইনি চিকিৎসক) ১টি পদের ১টি শূন্য, সার্জারি চিকিৎসক ১টি পদের ১টি শূন্য, অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ১টি পদের ১টি শূন্য, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) পদটি প্রায় ১২ বছর ধরে শূন্য রয়েছে। টেকনোলজিস্টের অভাবে প্রায় ১১ বছর ধরে বিকল হয়ে আছে এক্স-রে মেশিন। এতে রোগীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে সুবিধা পাচ্ছেন না। প্রায় ৭ বছর ধরে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের (ল্যাব) ২টি পদের একটি শূন্য। এতে সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের ছুটতে হয় বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

অন্যদিকে নার্সের ১৪টি পদের মধ্যে ৭টি শূন্য, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ১১টি পদের মধ্যে ৭টি পদ শূন্য, স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ৪টি পদের ৪টি শূন্য, অফিস সহকারীর ৩টি পদের মধ্যে ১টি পদ শূন্য, ক্লিনারের ৫টি পদের মধ্যে ১টি পদ শূন্য, এমএলএসএস ৩টি পদের ৩টি পদ শূন্য, আয়া ২টি পদের ২টি শূন্য, ওয়ার্ড বয় ২টি পদের ২টি পদ শূন্য, বাবুর্চি ২টি পদের ২টি শূন্য, মালি ১টি পদের ১টি শূন্য।

নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, ‘৩১ শয্যার কম জনবল দিয়েই ৫০ শয্যার কার্যক্রম চলছে। ৩১ শয্যার জনবলেও বেশ কিছু পদ শূন্য আছে। এই সীমিত জনবল নিয়েও আমরা সাধ্যমতো জনগনকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছি। এক্স-রে মেশিনটি নষ্ট আছে প্রায় ১১ বছর ধরে। তবে ভালো খবর হচ্ছে সম্প্রতি একটি নতুন এক্স-রে মেশিন এসেছে। শীঘ্রই আমরা এটি চালু করতে পারব। এছাড়া জনবল নিয়োগের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। জনবল নিয়োগের কার্যক্রম চলমান আছে। জনবল বাড়লে স্বাস্থ্য সেবার মান আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর...
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

Theme Customized BY: Themes Seller